ড্রোনে দুর্গমপ্রান্তেও করোনার টিকা পৌঁছে দিতে চায় ‘অকুতোভয়’
কোন প্রকার মানুষের সংস্পর্শ ছাড়াই ৫০ গ্রাম ভরের ২০০টি ভ্যাকসিনের ভায়াল (বোতল) নিয়ে ১০ কিলোমিটার দূরের গন্তব্যে পৌঁছাবে ড্রোন। করোনা টিকার জন্য ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেই ভ্যাকসিন বহন ও নিরাপদে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে লোড আনলোড করতে পারে ছয় পাখার চতুর্ভুজ ড্রোনটি।
করোনার নতুন পরিবর্তিত বিশ্বের জন্য উদ্ভাবনী এই রোবট ধারণা দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব টেকনোলজি (আইআইটি) আয়োজিত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম টেকফেস্ট ‘কগনিজেন্স ২১’ এর ‘Aer-O-Vacx’ জয় করেছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবক দল- টিম ‘অকুতোভয়’। কম ওজন আর টেকসই কাঠামোর জন্য ড্রোনটি তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে কার্বন ফাইভার।
করোনার ভয়কে পরোয়া না করে লকডাউনের ভেতরে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এই উদ্ভাবন সফল করেছে কুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ৪ শিক্ষার্থী।
সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হলেই দেশের জন্য এই রোবটটির একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করতে যাচ্ছে অকুতোভয়।
দলনেতা নিলয় নাথের সঙ্গে ড্রোনের নকশা ও নিয়ন্ত্রণ কোডিং নিয়ে কাজ করেছেন সতীর্থ জাহিদ হাসান, শাহিনুর হাসনাত রাহাত ও আয়াজ আল আবরার।
কুয়েটের যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হেলাল আল নাহিয়ানের নিবিঢ় তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় উদ্ভাবনে সফল হলেও বাস্তবায়নে সেমিস্টার শেষের জন্য অপেক্ষা করতে হবে তরুণ উদ্ভাবকদের।
আর যেহেতু ড্রোনটি তৈরি করতে কিছু কিছু যন্ত্র কিনতে হবে যে জন্য প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতার। আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয়ী এমন প্রকল্পগুলোকে আলোর মুখ দেখাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবগুলো পর্যপ্ত বরাদ্দ দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন অধ্যাপক ড. হেলাল আল নাহিয়ান।
অতিমারি করোনা পরিস্থিতির জন্য নিজেদের উদ্ভাবিত ড্রোনটি বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ বলে মনে করেন উদ্ভাবক দলের দলনেতা নিলয় নাথ। তবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল যেমন- বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসহ দেশের দুর্গম গ্রামাঞ্চলে কোনো প্রকার সংক্রমণের ঝুঁকি ছাড়া অল্প সময়ে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে এই ড্রোনের ব্যবহারে আগ্রহী তিনি।
আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতলেও ড্রোনটি তৈরিতে প্রাক্কলিত লাখ তিনেক টাকা খরচ যোগানোই এখন ‘অকুতোভয়’ এর সামনে স্বপ্ন পূরণে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন এই দলের অপর সদস্য জাহিদ হাসান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোভিড পরিস্থিতিতে কোভিড ভ্যাক্সিন দ্রুত এবং দূরদূরান্তে নিরাপদে বহন করতে অকুতোভয় এর এই উদ্ভাবনের বাস্তব রূপ দেয়া গেলে.
বিশ্বে বাংলাদেশকে ডোন উদ্ভাবক জাতি হিসেবে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।